৬টি কাভার্ডভ্যান আত্মসাতের ‘মাস্টারমাইন্ড’ জামাল গ্রেপ্তার
প্রকাশিত : ১৫:৫৬, ২৬ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামে ভাড়া নেওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে ছয়টি কাভার্ডভ্যান আত্মসাতের অভিযোগে জামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে নগরের লালখান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় আত্মসাত হওয়া একটি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, বাকি পাঁচটি কাভার্ডভ্যান উদ্ধারে একাধিক টিম কাজ করছে এবং এ ঘটনায় জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধানও মিলেছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আত্মসাত হওয়া ছয়টি কাভার্ডভ্যানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। ব্যবসায়িক লেনদেনের আস্থাকে কাজে লাগিয়ে গাড়িগুলো ভাড়ায় নেওয়া হলেও পরে সেগুলো আর মালিকপক্ষের কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি। তদন্তে এটিকে পূর্বপরিকল্পিত প্রতারণা ও আত্মসাতের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোতোয়ালি থানা সূত্র জানায়, সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্ট লজিস্টিকস-এর মালিকানাধীন ছয়টি কাভার্ডভ্যান আত্মসাতের ঘটনায় গত ১২ মে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি হওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে জামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তার অবস্থান নিশ্চিত করে শুক্রবার সকালে লালখান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তার দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে আত্মসাত হওয়া একটি কাভার্ডভ্যানও উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী মনিরুল করিম বলেন, “শুক্রবার সকালে অভিযান চালিয়ে আত্মসাত হওয়া একটি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। তাদের গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আশা করছি, বাকি কাভার্ডভ্যানগুলোও দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।”
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ব্যবসায়িক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে কাভার্ডভ্যানগুলো ভাড়ায় নেওয়া হয়েছিল। শুরুতে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও একপর্যায়ে অভিযুক্তরা গাড়িগুলোর অবস্থান গোপন করতে শুরু করে। নির্ধারিত সময়ে গাড়ি ফেরত না দিয়ে নানা অজুহাত দেখানো হয়। পরবর্তীতে মালিকপক্ষ যোগাযোগ করেও গাড়িগুলো ফেরত না পাওয়ায় বিষয়টি আত্মসাতের পর্যায়ে পৌঁছায় এবং থানায় মামলা করা হয়।
পুলিশ বলছে, এটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ফল নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে যানবাহন আত্মসাতের একটি কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে এ ঘটনার সঙ্গে আরও ব্যক্তি বা একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িগুলো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো। ফলে এগুলো হারিয়ে যাওয়ায় শুধু যানবাহনের মূল্যই নয়, ব্যবসায়িক কার্যক্রমও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাত হওয়া ছয়টি কাভার্ডভ্যানের নিবন্ধন নম্বর হলো: CM-TA-11-5650, CM-TA-11-4733, CM-TA-11-5649, CM-TA-11-5647, CM-TA-11-5648, CM-TA-11-4324 এগুলোর মধ্যে একটি উদ্ধার হলেও বাকি পাঁচটি এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
পরিবহন ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভাড়ায় নেওয়া গাড়ি আত্মসাৎ, জাল কাগজপত্র তৈরি এবং মালিকানা পরিবর্তনের মতো অপরাধ বেড়েছে। ফলে গাড়ি ভাড়ায় দেওয়ার আগে চালক, ভাড়াটিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও নথি যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এ মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলে শুধু কাভার্ডভ্যান আত্মসাতের ঘটনাই নয়, এর পেছনে সক্রিয় সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কেও আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
এএইচ
আরও পড়ুন










